পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বহুল আলোচিত বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় নতুন করে কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতার নাম সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন।
তিনি জানান, চলমান সাক্ষ্যগ্রহণের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসে। আইনি বিধান অনুযায়ী, সাক্ষ্যে কারও সম্পৃক্ততার তথ্য এলে তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, তৎকালীন সরকারের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের নামও সাক্ষ্যে উল্লেখ হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আদালতে উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে দায়ের করা এই মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮০০ জন। মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে আসায় মামলাটি আবারও রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট রায় পর্যালোচনা করে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলার কয়েক শ’ আসামি জামিন পান। এতে মামলাটির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে না।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত রক্তক্ষয়ী ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি ছিল এক নজিরবিহীন ট্র্যাজেডি। ঘটনার পরপরই হত্যা ও বিস্ফোরক—দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলার বিচার অনেকাংশে সম্পন্ন হলেও বিস্ফোরক মামলাটি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন করে শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত এবং প্রসিকিউশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সবার। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।