টাঙ্গাইলে বিয়ের তিন মাস পর গৃহবধূর মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ নিয়ে তদন্তে পুলিশ

, বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে বিয়ের তিন মাস পর গৃহবধূর মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ নিয়ে তদন্তে পুলিশ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে ১৯ বছর বয়সী মোনিয়া রহমান মুন্নির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মুন্নি ওই গ্রামের মঞ্জু মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় জিহাদ ভূঁইয়ার স্ত্রী। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের দাবিতে জিহাদ ভূঁইয়ার বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশন করেছিলেন মুন্নি। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী জিহাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মুন্নির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল বলে জানায় নিহতের পরিবার।

নিহতের মা রিনা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জিহাদ তার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বিয়ের পর থেকেই মুন্নিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। রিনা বেগমের দাবি, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী জিহাদ ভূঁইয়া ও তার মা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।