ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা রবার্তো কার্লোসকে নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তুর্কি গণমাধ্যম হাবেরলারসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা প্রায় চার সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সান্নিধ্যে এসে কালেমা পাঠ করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কার্লোস নিজে কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সংসদ সদস্য আলিসাহিনের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে। ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এক্সে একটি বার্তা দেন। সেখানে সাউ পাওলোভিত্তিক সংগঠন ‘ব্রাজিলিয়ান চ্যারিটেবল ইউনিয়ন অব মুসলিম ইউথের’ প্রতিনিধি শেখ জিহাদ হামাদার উদ্ধৃতি দিয়ে আলিসাহিন জানান, কার্লোস দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হামাদার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। চার সপ্তাহ আগে তিনি শেখ হামাদার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে শাহাদাহ পাঠ করেন। আলিসাহিন তাঁর পোস্টে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য সুখ-শান্তি কামনা করেছেন।
ইসলাম গ্রহণের এই খবরের ঠিক আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্লোসের বিয়ের ছবি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। জানা গেছে, তিনি মরোক্কান বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ তরুণী এবং ফিফা নিবন্ধিত খেলোয়াড় এজেন্ট সোহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার কাজের সূত্রে তাঁদের পরিচয় এবং পরবর্তীতে সম্পর্কের সূচনা হয়। যদিও তাঁদের বিয়ের বিষয়টি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল, তবে ২৫ জুলাই পারিবারিকভাবে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে বর্ণিল ক্যারিয়ার গড়া কার্লোস খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচেতেও খেলেছেন, যার ফলে তুর্কি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে এই খবর ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে। তুর্কি সাংসদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট দাবি সত্ত্বেও রবার্তো কার্লোস নিজে বা তাঁর প্রতিনিধি দল এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডারের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অগণিত ভক্ত ও ফুটবল বিশ্ব।



