অনেকেই মনে করেন অ্যাভোকাডো, মধু, বাদাম বা গ্রানোর মতো স্বাস্থ্যকর খাবার যত খুশি খাওয়া যায়। তবে কোচ কেভের মতে, এসব খাবার পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তাই পরিমাণের দিকে নজর না দিলে ওজন কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ, খাবার স্বাস্থ্যকর কি না তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি দিনে কতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করছেন।
পেটের মেদ ঝরানোর জন্য অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিট-আপ বা অ্যাবস ওয়ার্কআউট করেন। কিন্তু কোচ কেভের ভাষ্যমতে, শুধু ব্যায়াম করলেই মেদ কমে না। আপনি হাজারবার সিট-আপ করলেও যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করেন, তবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া অসম্ভব। তাই ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।
ফিটনেস জগতে ‘টোনিং’ শব্দটি বেশ জনপ্রিয় হলেও কোচ কেভের মতে, আলাদা করে টোনিং বলে কিছু নেই। মূলত শরীর থেকে চর্বি কমে পেশিগুলো দৃশ্যমান হলেই শরীরকে টোনড দেখায়। ফ্যাট কমানো এবং মাংসপেশি গঠন—এই দুই প্রক্রিয়ার সমন্বয়ই কাঙ্ক্ষিত ফিট লুক বা শারীরিক গঠন নিশ্চিত করে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকেই শুধু কার্ডিও বা দৌড়ানোর ওপর ভরসা রাখেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ফ্যাট লসের জন্য ওয়েট ট্রেনিং বা ভারোত্তোলন অনেক বেশি কার্যকর। কারণ মাংসপেশি শক্তিশালী হলে শরীর বিশ্রামের সময়ও বেশি ক্যালোরি খরচ করতে পারে। এছাড়া অনেকে বেশি ঘাম ঝরানোর জন্য গরম পোশাক পরে ব্যায়াম করেন, যা ভুল ধারণা। ঘাম কেবল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রক্রিয়া, এটি ব্যায়ামের কার্যকারিতার কোনো নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়।
কখনো কখনো শরীরের মেদ কমলেও ওজনের মেশিনে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায় না। এর কারণ হতে পারে একই সঙ্গে পেশি তৈরি হওয়া। তাই শুধু স্কেলের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে শরীরের গঠন ও ফিটনেসের সামগ্রিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট বা মাঝেমধ্যে জাঙ্ক ফুড কোনোটিই সরাসরি ওজন বাড়ায় না, যদি না তা শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়। অনেকেই অজান্তে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বাড়ার মূল কারণ।
সবশেষে, দ্রুত ওজন কমানোর পেছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সুস্থ ফিটনেস মানে সাময়িক ওজন কমানো নয়, বরং এমন একটি জীবনধারা তৈরি করা যা বয়স বাড়লেও শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখবে।



