নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের অপতৎপরতা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও মাঠ পর্যায়ের পুলিশের দুর্বলতার সুযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন। সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তারা ঝটিকা মিছিল ও ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।
গত রবিবার পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকগুলোতে সব ইউনিটের প্রধানদের স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও ঊর্ধ্বতনদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের ধরার পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার এবং অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
এই কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে গুলশানে মিছিল ঠেকানোর ব্যর্থতায় গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন ও গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকে ক্লোজ করা হয়েছে। গত শুক্রবার গুলশানের ৩ নম্বর সড়কে মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে এবং পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জানান, গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও জুমার নামাজের অজুহাতে জড়ো হওয়া লোকজনের উদ্দেশ্য বুঝতে পুলিশের বিলম্ব হতে পারে, তবে পরবর্তী সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রাজধানী ছাড়িয়ে গাজীপুরের পূবাইল এবং চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকাতেও একই ধরনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আসার পর থেকেই দলটির কার্যক্রমের গতিবিধি বেড়েছে। পুলিশের সূত্র বলছে, মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব ও নজরদারির দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবার প্রথাগত ধারার পরিবর্তে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা প্রিভেন্টিভ মেজার গ্রহণ করেছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আওতায় রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ব্লক চেক, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জিরো-গ্যাপ নিরাপত্তা জোরদার এবং আবাসিক হোটেলের অতিথি তালিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বহিরাগতদের আনাগোনা ও অপতৎপরতা রোধে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি) তথ্য সংগ্রহ করছে। মিছিলকারী ও নেতাদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কোনো এলাকায় মিছিলের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক কঠোর অ্যাকশনে যাবে পুলিশ। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে সর্তকতা বজায় রেখে বাসাবাড়ি, মেস ও হোস্টেলে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ব্লক রেইড পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন অরাজকতা তৈরির সুযোগ না পায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশি দুর্বলতায় তৎপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল, ওসি ক্লোজড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকার বাহিরেও বেশ কিছু মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গুলশানের বড় মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে এলাকায় মিছিল হবে ওই এলাকার পুলিশকে দায় নিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই প্রতিটি থানায় রাত এবং দিনে টহল বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই অংশ হিসেবে গুলশানের মিছিলের জেরে ৫ দিন পর গুলশান থানার ওসি ও গুলশান জোনের ডিসিকে ক্লোজ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে, একইদিন গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো।



