মক্কায় হুতি ড্রোন হামলা: ভাইরাল ভিডিওটি আসলে পুরনো

, বিশ্ব

মক্কায় হুতি ড্রোন হামলা: ভাইরাল ভিডিওটি আসলে পুরনো

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে পবিত্র মক্কা নগরীর আকাশসীমার কাছে হুতিদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ভিডিওটিতে আকাশে একটি আলোকিত বস্তুকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, মক্কার দক্ষিণে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই ড্রোনটি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি মক্কার সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, এই ভিডিওটি অন্তত এক বছর আগের, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদির আরেক পবিত্র শহর মদিনার ঘটনা হিসেবে ইন্টারনেটে প্রথমবার সামনে এসেছিল। বর্তমানে এটি নতুন ঘটনার দাবি দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শতাধিক পেজ ও প্রোফাইলে ছড়িয়ে পড়েছে, যার একটিতেই ছয় লাখেরও বেশি ভিউ হয়েছে।

ভিডিওর দৃশ্যগুলো বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা গেছে, হুবহু একই ফুটেজ ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে বিদ্যমান। সেই সময়ে ‘ইসলাম চ্যানেল’ নামক একটি ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটি মদিনা এবং মসজিদে নববির কাছাকাছি আকাশে বিস্ফোরণের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন এবং আকাশ থেকে কোনো বস্তু পড়ে যেতে দেখেছিলেন।

সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মদিনার ওই ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে তৎকালীন প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, ড্রোনটি কোথা থেকে বা কার দ্বারা প্রেরিত হয়েছিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মসজিদে নববি বা তার আশেপাশের এলাকায় তখন কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেই সময়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর ও অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মক্কার ঘটনায় এই পুরনো ভিডিওটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি তুলেছে সৌদি আরব। তবে এই দাবির সপক্ষে তারা এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। অন্যদিকে, হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট যে, মক্কা ও মদিনার দুই ভিন্ন ঘটনার মধ্যে কোনো মিল নেই। ভাইরাল হওয়া ক্লিপটি মদিনার পুরনো ভিডিও, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়। সচেতনতা ও তথ্যের সঠিক যাচাই ছাড়া এ ধরনের ভিডিও শেয়ার করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে একটি পেজেই গতকাল রাত ১২টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক, ষষ্ঠ লিংক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রচারিত ভিডিওটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ড্রোনটি কোন দেশ বা কোন স্থান থেকে ছোড়া হয়েছিল বা এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা ওই সব প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাচাইয়ে পাওয়া তথ্যগুলো পাশাপাশি রাখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।