ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে পৃথক নতুন উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। অখণ্ড ইউনিয়ন পুনর্বহাল ও প্রশাসনিক বিভক্তির পরিকল্পনার বিরোধিতায় তারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। রোববার সকাল থেকেই সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় বিক্ষুব্ধরা রেলপথ অবরোধ করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। বাসুদেব ইউনিয়নবাসী শুরু থেকেই বিষয়টির প্রতিবাদ করলেও তার কোনো সুরাহা মেলেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল গ্রাম নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠন করে সেটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গত ৪ জুন সরকারি গেজেটও প্রকাশিত হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নকে বরিশল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব আসলে ক্ষোভের আগুন আরও জ্বলে ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন ওইসব ইউনিয়নের মানুষ।
জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠালে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এরপরই এলাকাবাসী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাস্তা ও রেলপথে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, অবরোধের বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। জানমালের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য নিরাপত্তায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।



