লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে উত্তাপ ছড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনার সমতায় চলে এসেছে। এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচ শেষে রিয়ালের সংগ্রহ ৩০ পয়েন্ট। সমান সংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও বার্সেলোনা একটি ম্যাচ কম খেলেছে। অন্যদিকে, ১২ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় তিনে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ আজ বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছে। এমবাপ্পের ফ্রি-কিক ভ্যালেন্সিয়ার দেয়ালে লেগে উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডারের কাছে চলে এসেছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ধরে রাখে জোসে মরিনিওর শিষ্যরা। প্রথমার্ধে ফেদেরিকো ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোলে রিয়াল ব্যবধান গড়ে নেয়। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করেন ভালভের্দে, যার পেছনে এমবাপ্পের নেয়া ফ্রি-কিকের ভূমিকা ছিল। এরপর জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গুলের। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে না থাকলেও রিয়ালের আক্রমণভাগ ছিল বেশ ধারালো। ২৫ অক্টোবরের ক্লাসিকোতে বার্সাকে হারানো রিয়াল এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা অষ্টম জয় নিশ্চিত করল। ২৫ অক্টোবর ন্যু ক্যাম্পে ক্লাসিকোতে বার্সাকে হারিয়েছিল রিয়াল।
নবম মিনিটে ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ কিছুটা থমকে দাঁড়ায়। তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা তাকে শ্রদ্ধা জানান। মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য ভ্যালেন্সিয়া শুরুর দিকে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। আরন মায়োলের নেয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এছাড়া গিদো রদ্রিগেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিপজ্জনক জায়গায় অরেলিয়ঁ চুয়ামেনির পকেট থেকে বল কেড়ে নেন আরন মায়োল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি রিয়াল। গোল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এমবাপ্পে শেষ পর্যন্ত সফল হন। ম্যাচের প্রায় ৮০ মিনিটের দিকে গুলেরের একটি পাস থেকে ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কিকে কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি তারকা। চলতি লিগে এটি তার ১৩তম গোল এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে ১৭তম। রিয়ালের জার্সি গায়ে টানা সাত ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়লেন এমবাপ্পে। গোল করার কিছু সময় পরেই ভ্যালেন্সিয়ার হোসে গায়া তাকে স্লাইডিং ফাউল করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে এমবাপ্পেকে দেরিতে স্লাইডিং ফাউল করেন ভ্যালেন্সিয়ার হোসে গায়া। দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।
ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে রিয়াল আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলরক্ষক দিমিত্রিয়েভস্কি বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন। বেলিংহাম ও এমবাপ্পের একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ, যা শিরোপা লড়াইয়ে বার্সেলোনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করল।



