রংপুরে চারজনের প্রাণহানি: আসামিদের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি

, বাংলাদেশ

রংপুরে চারজনের প্রাণহানি: আসামিদের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার দুপুরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এই পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই আসামিদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ও মব তৈরির আশঙ্কায় কারাগারের বাইরে না এনে কারাগারের ভেতরেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি দল।

রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার আট দিন পর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সাধারণত দু-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করলে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় তা পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল যে, ঘটনার আগে আসামিরা মাদক সেবন করেছিলেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তারা আট থেকে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছিলেন। ডোপ টেস্টের এই ফলাফল পুলিশের আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপপুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার পর গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আসামিরা কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতেই তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এই ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। চুল বা রক্তের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় মূত্র পরীক্ষার ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে। এদিকে, এই পুরো ঘটনা নিয়ে অধিকার সংস্থা আসকসহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান চালানো হচ্ছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ওই চারজনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ইতিমধ্যে জবানবন্দি দিয়েছেন।