এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিমানমন্ত্রীর

, বাংলাদেশ

এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিমানমন্ত্রীর

বুধবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের এভিয়েশন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে সরকার একটি এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে এবং বগুড়ায় নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বমানের লিগ্যাসি এয়ারলাইন্সে উন্নীত করার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার বড় দৃষ্টান্ত। তবে উড়োজাহাজ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এছাড়া ঢাকা-নিউইয়র্ক (জেএফকে) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি হিসেবে এফএএ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ স্ট্যাটাস অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির সুবিধার কথা চিন্তা করে আগামী বছরেই এই রুটে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ। দেশের ১৪৯৮টি পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী বলেও জানান তিনি। এছাড়া ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। এমনকি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচার ও প্রসারে বিভিন্ন পর্যটন স্পট নিজে ভ্রমণের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।