রাজধানীর ন্যাম ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে ওইদিন রাতেই এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। সোমবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুল ইসলামের চারদিন ও মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা মরিয়মের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। মেয়ের মৃত্যুর জন্য তিনি ওবায়দুর নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে দায়ী করেছেন। মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ওবায়দুরই মরিয়মকে কোচিংয়ের নাম করে এমপির সঙ্গে সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। এই পরিস্থিতির খেসারত দিতে গিয়েই তার মেয়ে প্রাণ হারিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, রোববার বিকালে ঘটনার পর এমপির ফোন পেয়ে মরিয়মের বাবা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে মেয়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় ওই ফ্ল্যাটেরই আরেকটি কক্ষে এমপি ও তার প্রথম স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে মরিয়মের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা চিরকুটে মরিয়মের আবেগঘন অনুভূতির প্রতিফলন দেখা গেছে, যেখানে ভালোবাসা ভাগ না করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্যাডে কালো কালিতে লেখা দুটি চিরকুটে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষ ও বিশ্বাসের বিনিময়ে ধোঁকা খাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হস্তলিপির ভিন্নতা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো বিভিন্ন সময়ে লেখা হয়েছে। এছাড়া ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি চিরকুটে কিছু ধর্মীয় আমল ও সূরার উল্লেখ ছিল।
আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে এমপির আইনজীবীরা তার বয়স ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এজাহার ও উদ্ধারকৃত চিরকুটগুলো আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে, রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং এটি একটি আত্মহননের ঘটনা।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার রহস্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এই মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুরকে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই নির্যাতন থেকেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এই সবের মূলহোতা হলো আমার শ্যালক ওবায়দুর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওর জন্যই আমি এমপি’র সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ নিতে এসে অশ্রুশিক্ত হয়ে এসব কথা বলছিলেন নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় মরিয়মের বোন, মা-সহ পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয় গাজী নজরুল ইসলামকে।



