জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কের ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল’ হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেছেন যে, এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলাদা কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। তার এই সফর দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশপ্রেম, আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করবেন।
সফরের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে মাহ্দী আমিন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি আরও জানান, আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বাবা-মায়ের মতোই দৃঢ় অবস্থানে থাকবেন।
সফরের বহর প্রসঙ্গে মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী সনাতনী ধারার বাইরে গিয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে এই সফরে এসেছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ৩৫ জন রয়েছেন। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া কর্মী, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় স্টাফরা সাথে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
এই সফরসূচি অনুযায়ী, যাতায়াতের সময় বাদ দিলে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে মাত্র চার কর্মদিবস অবস্থান করবেন এবং এই সময়ে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান। বাসসের তথ্যানুযায়ী এই সংক্ষিপ্ত সফরটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।’।



