টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৩ বছর টিকে থাকা ক্রিস গেইলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ব্যাটার লুয়ান-দে প্রিটোরিয়াস। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’-এ ব্লুমফন্টেইনের মাঠে টাইটানসের হয়ে নাইটসের বিপক্ষে এই অনন্য কীর্তি গড়েন ২০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার। ম্যাচে প্রিটোরিয়াস শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের দিশেহারা করে তোলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’-এ ব্লুমফন্টেইনে টাইটানসের হয়ে খেলতে নেমে এই অনবদ্য কীর্তি গড়েন মাত্র ২০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি হার্ডহিটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ক্রিস গেইলের ঐতিহাসিক রেকর্ড অবশেষে ভেঙে গেল। শেষ পর্যন্ত খেলেন এক অবিশ্বাস্য ও বিধ্বংসী ইনিংস। তবে ইনিংসের শেষ ওভারগুলো ফুরিয়ে যাওয়ায় সেই ঐতিহাসিক দ্বিশতকের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তার জন্য।
৭৯ বল মোকাবিলা করে ১৩টি আকাশচুম্বী ছক্কা ও ১৫টি বাউন্ডারিতে অপরাজিত ১৮৮ রানের এক দানবীয় ইনিংস উপহার দেন প্রিটোরিয়াস। তার এই তাণ্ডবে নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেটে ২৬৭ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ পায় টাইটানস। ম্যাচটিতে ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ২৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর মাত্র ১৬ বলেই সেঞ্চুরির কোটা স্পর্শ করেন এই তরুণ। পরবর্তীতে মাত্র ৫৮ বলে ১৫০ রানের মাইলফলকও পার করেন তিনি। বলের সংখ্যার দিক থেকে এটি পুরুষদের টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দীর্ঘতম ইনিংসের রেকর্ড হিসেবেও নথিভুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ক্রিস গেইল অপরাজিত ১৭৫ রানের যে ইনিংসটি খেলেছিলেন, সেটিই এতদিন ছিল টি-টোয়েন্টির ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। দীর্ঘ সময় পর সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন প্রিটোরিয়াস। ক্যারিয়ারের বর্তমান সময়টা দুর্দান্ত পার করছেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। গত মাসেই নামিবিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫৩ বলে ১০১ রানের একটি চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন তিনি।
নানা শারীরিক চোট ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মাঠে ফিরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরেছেন প্রিটোরিয়াস। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেওয়া এই উদীয়মান তুর্কি ধারাবাহিকভাবে নিজের ব্যাটিং প্রতিভা প্রমাণ করে চলেছেন। আজকের এই রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্ব ক্রিকেটের পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন।



