যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মন্টগোমারি কাউন্টিতে অবস্থিত চারটি বিশেষায়িত মধ্যম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগে করা একটি মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একদল অভিভাবকের করা এই মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থীদের বাড়তি সুবিধা দিতে গিয়ে এশীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টির বিশেষায়িত এসব বিদ্যালয়ে ভর্তির নীতিমালা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করা হয়। কঠোর পাঠ্যক্রমের জন্য পরিচিত এই বিদ্যালয়গুলোতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কোভিড-১৯ মহামারির সময় এক বিশেষ ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা হয়, যা ‘প্যানডেমিক প্ল্যান’ বা মহামারিকালীন পরিকল্পনা হিসেবে পরিচিত।
‘অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন ফেয়ারনেস’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে অভিভাবকরা মামলাটি পরিচালনা করছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আদালত বিষয়টি নিয়ে শুনানি করবেন এবং আগামী জুনের মধ্যে এর রায় আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে নিম্ন আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। এখন সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা খতিয়ে দেখবেন, অভিভাবকদের কাছে বৈষম্যের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে কি না।
মহামারিকালীন এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রথমে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত সম্ভাবনা যাচাই করা হতো। এরপর যোগ্যদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিশেষায়িত বা স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হতো। অভিভাবকদের আইনজীবীদের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়ার একটি অংশে শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলের সঙ্গে একই ধরনের পারিবারিক আয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফল তুলনা করা হতো, যা পরোক্ষভাবে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।
মামলাকারীদের আরও দাবি, এশীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা সাধারণত এমন সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে যেখানে শিক্ষার মান উন্নত এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীর হার কম। সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া আবেদনে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য করতে পারে। তাদের মতে, প্রক্রিয়ায় সরাসরি জাতিগত পরিচয়ের উল্লেখ না থাকলেও সেখানে বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের ভর্তি নীতিমালা পুরোপুরি জাতিগত পরিচয়-নিরপেক্ষ। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক পলা জিনিস মামলাটি খারিজ করার সময় উল্লেখ করেছিলেন যে, বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিকৃত এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার আবেদনকারীদের মধ্যে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের হার থেকে বেশি। ওই সময় তিনি কোনো বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাননি।
আদালতে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা মামলাটি খারিজের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘প্যানডেমিক প্ল্যান’ একটি লটারি পদ্ধতি যা জাতিগত পরিচয় বিবেচনায় নেয় না। চালুর সময়ের কারণে এ নীতিমালার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্যানডেমিক প্ল্যান’।
তাদের মতে, এই পরিকল্পনার ইতিহাস বা উদ্দেশ্য সংবিধানের পরিপন্থী নয়। এখন সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করবেন যে, জাতিগত পরিচয়-নিরপেক্ষ নীতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে অন্যদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে কি না।



