প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরকারপ্রধান মন্ত্রিসভায় রদবদল ও নতুন মুখ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে এই রদবদল সম্পন্ন হতে পারে বলে সরকারি ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১ জুন পদত্যাগ করেন। প্রায় দুই মাস পর এই মন্ত্রণালয়ে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে তারা দুজনই জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন এবং সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি খালি হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এমনটি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ছড়ানো খবরে তিনি বিব্রত বলে জানিয়েছেন।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে টেকনোক্রেট কোটায় নতুন মুখ আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন। এছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতন ও মামলার শিকার হওয়া নেতাদের মূল্যায়ন করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করার মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করাই এই রদবদলের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ৬ মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বে আছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে সংসদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন।



