April 24, 2026, 2:31 am
Title :
সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’, ৫ এমপিকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন বাড়ছে যানবাহনের ভাড়া ও দ্রব্যমূল্য: ডা. জাহেদ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত ফেসবুক অফিস কেন জরুরি: সিরাজুল হক সাজিদ অচলাবস্থায় রাজশাহী নার্সিং কলেজ, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে রাজশাহীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ গাইবান্ধায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন সংরক্ষিত নারী আসনে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াত কেশবপুর কলেজে অবহেলা, ৩৯ শিক্ষার্থী ঝুঁকিতে গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ

এস আলমের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বিএনপি নেতার ভাগ্যবদল!

  • Update Time : Thursday, September 5, 2024
  • 194 Time View
এস আলমের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বিএনপি নেতার ভাগ্যবদল!
এস আলমের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বিএনপি নেতার ভাগ্যবদল!

এস আলমের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বিএনপি নেতার ভাগ্যবদল!

চট্টগ্রামের গন্ডামারায় নির্মিত হয়েছে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে।

এটির নির্মাণ কাজের শুরুতে বাধা দেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ লেয়াকত আলী। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল লেয়াকতের অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলে এতে প্রাণ হারান চারজন। বসতভিটা রক্ষা কমিটির ব্যানারে এ আন্দোলনে নামেন বিএনপি নেতা লেয়াকত।

হতাহতের ঘটনার পরপরই লেয়াকতের সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হয় শিল্পগ্রুপ এস আলম। এক্ষেত্রে সহায়তা করেন নৌবাহিনীর তৎকালীন এক কর্মকর্তা। যিনি তখন কোস্টগার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। ওই নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গুম-খুনের জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার হয়।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার লোকজন জানে লেয়াকতের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সখ্যতার বিষয়টি। কীভাবে বিতর্কিত শিল্পগ্রুপের সহায়তায় রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান লেয়াকত— সেটিও এলাকাবাসীর কাছে ওপেন-সিক্রেট। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, প্রকল্পে শ্রমিকসহ নানা মালামাল সরবরাহ এবং স্ক্র‍্যাপ ব্যবসার সবই ছিল লেয়াকতের নেতৃত্বে।

লেয়াকত ও এস আলমের বন্ধুত্বের কারণে আওয়ামী লীগের আমলেও দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও কোণঠাসা ছিল। পুরো গন্ডামারায় লেয়াকতের কথাই শেষ কথা ছিল।

লেয়াকতের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, পুলিশের ওপর হামলা, দস্যুতা, ভয়ভীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২১টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তার করতে ভয় পেতেন পুলিশ কর্মকর্তারা। লেয়াকতের বাসার আশপাশে সবসময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাহারা দেয় তার নিজস্ব বাহিনী।

লেয়াকত আলী ২০০৩ সালে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরপর দুই বার দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি।

২০১৪ সালে এস আলম গ্রুপ গন্ডামারা ইউনিয়নে জায়গা-জমি ক্রয় করে। এরপর লেয়াকত আরেকটি দেশীয় শিল্পগ্রুপকে জায়গা কিনে দেওয়ার নাম করে ওই এলাকা পরিদর্শন করান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল কয়লা বিদ্যুৎ নির্মাণে বাঁধা দেয় স্থানীয় লোকজন। এতে চারজন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়।

২০০৯ ও ২০১৪ সালে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করায় লেয়াকত বিএনপি থেকে ছিটকে পড়ে। যদিও তখনো কেন্দ্রীয় বিএনপির এক নেতার সঙ্গে লেয়াকতের সখ্যতা ছিল। ওই নেতার মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় লেয়াকত।

এর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্য সচিব আবদুর রশিদ দৌলতি লেয়াকত আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৫ লাখ টাকার মামলাটিতে লেয়াকত আলী কারাভোগও করেন।

একসময় আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল না হলেও ২০১৬ সালের পর এস আলমের সঙ্গে সখ্যতা হলে লেয়াকতকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। খুনোখুনির পর সমঝোতার মাধ্যমে গন্ডামারার জায়গা-জমি নামমাত্র মূল্যে এস আলমকে মালিক বানিয়ে দিয়ে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সফেক্ট্রার সঙ্গে ঝামেলা করে এস আলমের ভরাট কাজ থেকে ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন লেয়াকত। এসব টাকা দিয়ে লেয়াকত নিজে ও তার স্ত্রীর নামে প্রায় ১০০ বিঘা জায়গা ক্রয় করেন।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঋণের নামে এস আলম গ্রুপের নানা ব্যাংক লুটপাটের ঘটনা প্রকাশিত হতে থাকে। গত ২৯ আগস্ট বিতর্কিত এই শিল্পগ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের ব্যবহৃত ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নিতে সহায়তার অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে।

এটি নিয়ে ভিডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে বিএনপি গত ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

এর আগে ২৮ আগস্ট এস আলমের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল গাড়িতে চড়তে দেখা গেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। মিতসুবিশির স্টেশন ওয়াগন ব্র্যান্ডের জিপে করে ওইদিন তিনি কক্সবাজার থেকে চকরিয়া-পেকুয়ায় যান।

বহর নিয়ে সালাউদ্দিনের যাত্রার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা চান বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন।

সবশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার জামালখান এলাকার একটি ভবনের পার্কিং থেকে এস আলমের মালিকানাধীন একটি গাড়ি জব্দ করে পুলিশ। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন নগরের কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। যদিও এস আলমের গাড়িটি কীভাবে তার ভবনের পার্কিংয়ে রাখা হয়েছে, সেটি তিনি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে ২৮ আগস্ট এস আলমের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল গাড়িতে চড়তে দেখা গেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। মিতসুবিশির স্টেশন ওয়াগন ব্র্যান্ডের জিপে করে ওইদিন তিনি কক্সবাজার থেকে চকরিয়া-পেকুয়ায় যান। বহর নিয়ে সালাউদ্দিনের যাত্রার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা চান বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন।

সবশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার জামালখান এলাকার একটি ভবনের পার্কিং থেকে এস আলমের মালিকানাধীন একটি গাড়ি জব্দ করে পুলিশ। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন নগরের কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। যদিও এস আলমের গাড়িটি কীভাবে তার ভবনের পার্কিংয়ে রাখা হয়েছে, সেটি তিনি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদের সঙ্গে লেয়াকত আলীর সখ্যতার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁশখালীর লোকজন এসব ছবি শেয়ার করে লেয়াকত চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Times News7
Theme Customized By BreakingNews