সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে এক পোস্টে জামায়াতের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ভিত্তিক নির্বাচনের দাবিকে “পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা” বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্যে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। নাহিদের এ মন্তব্যের জবাবে জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ও শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে মন্তব্য করাই উত্তম। তিনি আরও বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক ধারা গড়ে তোলাই এখন জরুরি।”
এনসিপি নেতারা মনে করছেন, জামায়াত জুলাই সনদের মূল ভাবনার সঙ্গে থাকেনি। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “জুলাই সনদের আইনি কাঠামো নিশ্চিত না হলে স্বাক্ষর করা ঠিক ছিল না। জামায়াতের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর।”
এনসিপির অন্যান্য নেতারাও অভিযোগ করেন, জামায়াত মৌলিক সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষির দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছে। তারা জানান, “জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ধরে সংস্কারপন্থি রাজনীতি গড়ার পরিবর্তে জামায়াত বিষয়টিকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে।”
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মন্তব্য অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। আমাদের পিআর দাবির আন্দোলন প্রতারণামূলক নয়, বরং জনগণের দাবি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা।” তিনি এনসিপিকে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জুলাই সনদ স্বাক্ষর না করা, পরে জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তন এবং এনসিপির তীব্র প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে দুই দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দূরত্বই ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণের জন্ম দিতে পারে।
এনসিপি এখন বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও দলের বামঘরানার নেতারা এ বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াত যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর যেসব দল সংস্কার ও নির্বাচন ইস্যুতে ঐকমত্যে ছিল, তাদের মধ্যে এই ফাটল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন মতই দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।