ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকলেও অর্থ ও সরঞ্জাম সংকট পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত বাজেটের ঘাটতি নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে, যা ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ বাহিনী ২৮৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বাজেট পেয়েছে। তবে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এ বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বাজেট চাওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিভিন্ন থানার অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন হলেও যানবাহনের ঘাটতি এখনো কাটেনি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তহবিল সংকট এবং নির্বাচনের অন্যান্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এবার তুলনামূলক কম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও বরাদ্দ কম পাওয়ায় হতাশা রয়েছে। তবে নির্বাচন শেষে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যানবাহন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন থানায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১০৫টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে মোট ৪৫৫টি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে জিপ, পিকআপ, পেট্রল কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ জরুরি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২২৮টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে যানবাহনের অভাব এখনো রয়ে গেছে, যা টহল ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ। যেসব এলাকায় টহল সীমিত রাখা হচ্ছে, সেখানে উঠান বৈঠক, বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহন শুরু হবে পুলিশি প্রহরায়। ভোটকেন্দ্রগুলোয় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পিকেট পার্টি, মোবাইল টিম এবং সাদা পোশাকের সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত বাজেট ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচনের সময় ভোটারদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের আস্থা ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি বলেও মত দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।