বর্ষা-মাহিরের প্রেমের টানাপোড়েনে খুন জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা জানিয়েছেন, তার প্রেমিক মাহির রহমানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে বর্ষা দাবি করেছেন, তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বর্ষা ও মাহিরের মধ্যে নয় বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির পড়ত বুরহানউদ্দিন কলেজের প্রথম বর্ষে, আর বর্ষা ঢাকার মহানগর মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা শৈশব থেকেই একে অপরকে চিনতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে ছিলেন।
কিন্তু সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। বর্ষা মাহিরকে জানায়, সে অন্য একজন—জোবায়েদকে পছন্দ করে। এ খবর জানার পর মাহির রাগ ও ঈর্ষায় ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধু নাফিসকে সঙ্গে নিয়ে জোবায়েদকে হত্যা করে, বলে পুলিশের ধারণা।
ওসি আরও জানান, বর্ষা জানিয়েছে যে, তার ও জোবায়েদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না, এমনকি এ বিষয়ে কোনো মেসেজও পাওয়া যায়নি। তবে তার কথার ভিত্তিতেই মাহির হত্যার পরিকল্পনা করে।
পুলিশ জানায়, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের বন্ধু সৈকতের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। তাদের মধ্যে অন্য কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল না। হত্যার পর সৈকতকে খবর দেওয়ার জন্যই বর্ষা তাকে মেসেজ পাঠায়।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষাকে শান্ত ও চিন্তামুক্ত দেখা গেছে—তার মধ্যে হতাশা বা নার্ভাসনেসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, “ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আরও তদন্ত চলছে।”
জোবায়েদ হোসাইন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। তিনি গত এক বছর ধরে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’তে বর্ষাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বর্ষার বাসার তৃতীয় তলায় তাকে খুন করা হয়। বাসার সিঁড়ি ও তৃতীয় তলায় রক্তের দাগ পাওয়া যায়, এবং তার মরদেহ উপুড় হয়ে পড়ে ছিল।
ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন। রবিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয় এবং তার বাসা থেকে প্রটোকলসহ থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা দায়ের হয়নি, অভিযোগ পরিবারের। রাত ১টা থেকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিবার মামলা করার চেষ্টা করলেও থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি।
জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত জানান, তারা বর্ষা, তার বাবা-মা, প্রেমিক মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু নাফিসের বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাইলেও ওসি রফিকুল ইসলাম নাকি এতজনের নামে মামলা না দেওয়ার পরামর্শ দেন। ওসি জানান, বর্ষার বাবা-মায়ের নাম উল্লেখ করলে মামলা “হালকা” হয়ে যেতে পারে।
জোবায়েদের পরিবার জানিয়েছে, তারা রাত থেকে থানায় অবস্থান করলেও মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। ওসি অফিসে না থাকায় রাতভর অপেক্ষা করতে হয়েছে, পরে ওসি এসে মামলা সংশোধনের পরামর্শ দেন।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবার যে কয়েকজনের নামে মামলা দিতে চায়, আমরা তা নেব। তবে তাদের পরামর্শ দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।”