রিপোর্ট রুবেল তালুকদার, জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-৩, যা রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ও আলোচনা দিন দিন বাড়ছে।
এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক ভিপি ও তৃণমূলে পরিচিত মুখ ভিপি আইনুল হক। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুফতি আব্দুর রউফ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন।
১১ দলীয় জোটের শরিক দল হওয়ায় জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—এই দুই দলের প্রার্থীকে ঘিরে জোটের ভেতরেই সৃষ্টি হয়েছে মতবিরোধ ও আলোচনা-সমালোচনা। কেউ চাইছেন জামায়াতের প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হোক, আবার কেউ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে এগিয়ে রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন। একই জোটের দুই প্রার্থীকে কেন্দ্র করে এই দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা ভোটের মাঠে জোটের অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
এমন প্রেক্ষাপটে জয়ের দৌড়ে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি আইনুল হক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও সাধারণ ভোটারদের মতামতে উঠে এসেছে, ভিপি আইনুল হকের রয়েছে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং পূর্ব নির্বাচনী অভিজ্ঞতা।
উল্লেখ্য, ভিপি আইনুল হক ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তার জয় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং তাকে একজন পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, জোটের ভেতরের সমীকরণ এবং তৃণমূলের জনমত বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে—সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ভিপি আইনুল হক জয়ের সম্ভাবনায় অন্যদের তুলনায় স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।