নূর জানান, সেদিন তাঁরা মিছিল শেষে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ফিরছিলেন। মিছিলের শেষ প্রান্তে থাকা কিছু কর্মীর ওপর জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের ভেতর থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। “আমরা তখন সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময় পুলিশ ও সেনাসদস্যরা আমাদের কার্যালয়ের সামনে হামলা চালায়,” দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের এমন কোনো মানুষ নেই যে ভিপি নূরকে চেনে না—তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কৌশলে আমার মাথা ও মুখে আঘাত করেছে। আমার নাক ফ্র্যাকচার হয়েছে, এজন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।”
নূর অভিযোগ করেন, “এটি ছিল একটি টার্গেট অপারেশন—আমাকে আক্রমণ করে অন্যদের ভয় দেখানোই ছিল এর উদ্দেশ্য।” তিনি বলেন, “পুলিশ বা সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তৃপক্ষ যদি এ হামলার নির্দেশ না দিয়ে থাকে, তাহলে জানতে হবে, কার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটল। শেখ হাসিনার বা মোদির ‘জীন’ এসে হামলা চালায়নি নিশ্চয়ই।হামলার বিচার না হলে গলায় গামছা পরবো ”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বললেও বাস্তবে শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগি বদলেছে, রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি বা জবাবদিহিতা বদলায়নি।”
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো কার্যকরভাবে কাজ করছে না। “৩৫ দিন পার হয়ে গেছে, তবু বিচার বিভাগের তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই,” বলেন তিনি।
নূর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, “এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন যদি না হয়, দেশে আবার সংকট তৈরি হবে। একটি দলের প্রধানকেও যদি প্রকাশ্যে আক্রমণ করা যায়, তাহলে আগামীর নির্বাচন কতটা অবাধ হবে তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়।”
শেষে নূর বলেন, “আমরা সরকারের কোনো অংশীদার নই, বরং সহযোগিতা করছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাদের ‘সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাচ্ছে—আর যাদের দেওয়া হয়নি, তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। এই অবস্থা চললে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে।”