জনপ্রিয় ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ধরনের চাপ বা বিয়ের প্রলোভনে নয়, বরং একান্তই নিজের বিশ্বাস ও ভালো লাগা থেকে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালে অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমকে বিয়ের আগেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণগুলো নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘সাসুরাল সিমার কা’ ধারাবাহিকের সহ-অভিনেত্রী জয়তী ভাটিয়া।
এনটিভির উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানের সঙ্গে আলাপকালে জয়তী ভাটিয়া জানান, ‘সাসুরাল সিমার কা’ ধারাবাহিকের প্রথম সিজনে কাজ করার সময় থেকেই দীপিকা ও শোয়েবের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। জয়তী বলেন, দীপিকা যেকোনো কাজে শতভাগ মনোযোগ ও নিষ্ঠা বজায় রাখেন, যা শোয়েবের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। ধারাবাহিকটি শেষ হওয়ার পর দীপিকা বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে শোয়েবকে বিয়ে করেন।
জয়তী ভাটিয়া জানান, তিনি একসময় সরাসরি দীপিকাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, বিয়ের কারণেই কি তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন কি না। উত্তরে দীপিকা স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছিলেন। দীপিকা তাকে জানিয়েছিলেন, জীবনের একটি কঠিন ও সংকটপূর্ণ সময়ে তিনি আজমীর শরিফ দরগাহে গিয়েছিলেন। সেই সফর তাকে মানসিক প্রশান্তি ও নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছিল। সেই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পরই তিনি অনুভব করেন যে, ইসলাম গ্রহণ করাই তার জন্য সঠিক পথ। এটি ছিল তার সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে বিয়ের কোনো যোগসূত্র ছিল না।
জয়তী আরও বলেন, প্রার্থনার মাধ্যমে যদি কেউ মানসিক শক্তি খুঁজে পায় এবং সেই পথ অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা অবশ্যই তার ব্যক্তিগত অধিকার। দীপিকাকে স্বামীর ধর্মের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করার যে অভিযোগ অনেকে তুলে থাকেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন জয়তী। তিনি জানান, দীপিকা ও শোয়েব একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেন। দীপিকার অসুস্থতার সময় যেমন শোয়েব তার পাশে থেকেছেন, তেমনি দীপিকাও বছরের পর বছর শোয়েবের পরিবারের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা বজায় রেখেছেন।
এর সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।
তিনি বলেন, সবাই জানে দীপিকা যে কাজই করেন, তাতে শতভাগ মনোযোগ দেন।
তখন তিনি আজমীর শরিফে গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে তার মনে হয়েছিল, তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে চান।



