আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুরোপুরি তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা ও সময়সূচির ওপর ভিত্তি করেই এই সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে। ব্রিকসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক সংস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহ রয়েছে। তবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ থাকলেও, বাংলাদেশ সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, সেই দাওয়াত এখনো বহাল রয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক—এটিই সরকার প্রত্যাশা করে। তবে এই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে। ভারত যদি এই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে, তবে তা উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রসঙ্গটি উঠে আসে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অবস্থান জানানোর পরও ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী হিসেবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং তাদের প্রধান যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান, তবে তা অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ভারত সরকার যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, দুই দেশের সরকার ও জনগণই উন্নত সম্পর্ক চায়, তবে সেই সম্পর্কের পথে বাধাগুলো দূর করা জরুরি।
সাংবাদিকরা জানতে চান, বাংলাদেশের অবস্থান বারবার ভারতকে জানানোর পরও বুধবার (৬ জুলাই) দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিং হয়েছে।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটা ওনাকেই নিতে হবে, কারণ ওনার সময়সূচির ওপর নির্ভর করবে—উনি যেতে পারবেন কি পারবেন না।
এরকম চলতে থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরের মতো ভালো সম্পর্ক থাকবে কিনা।
কিন্তু সম্পর্কটা তো হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্মানের জায়গা রেখে এবং নিজেদের স্বার্থটাকে বজায় রেখে।
ভারত সেটা বুঝতে পারলে সবার জন্য মঙ্গল।
কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত



