আগামী ১১ আগস্ট ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীক্ষার্থীরা। আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় ভাইভা বোর্ডে ভালো করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিজের দেওয়া চয়েজ লিস্টের প্রথম তিনটি ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি বাকি চয়েজগুলো সম্পর্কেও মৌলিক ধারণা রাখতে হবে। অনেক সময় তালিকার ৪-৫ নম্বরে থাকা কাস্টমস, ট্যাক্স বা অডিট ক্যাডার থেকেও প্রশ্ন করা হয়। তাই করের প্রকারভেদ বা নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ারের মতো বিষয়গুলো জেনে রাখা ভালো।
ভাইভা বোর্ডে ইংরেজি স্পিচ বা বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি রাখুন। নিজের পরিচয় বা ‘ইন্ট্রোডিউস ইউরসেলফ’ এবং নিজের সবল ও দুর্বল দিকগুলো (স্ট্রং ও উইক জোন) নিয়ে আগে থেকেই গুছিয়ে উত্তর তৈরি রাখুন। এছাড়া নিজের অনার্স-মাস্টার্সের বিষয়, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়, হল এবং জেলার খুঁটিনাটি ও ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নেতৃত্ব (লিডারশিপ) ও ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) সংক্রান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করা হতে পারে। সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটি নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এ বিষয়গুলো আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে সমসাময়িক বৈশ্বিক ও জাতীয় ঘটনাবলি সম্পর্কে আপডেটেড থাকা জরুরি।
পরীক্ষার দিন প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র গুছিয়ে সঙ্গে নিন এবং রিচয়েজ ফর্মের বিষয়টি নিশ্চিত করুন। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের সময় অনুমতি নিন এবং কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে সালাম দিন। সালাম দেওয়ার সময় বোর্ডের সব সদস্যের সঙ্গে আই কন্টাক্ট বা চোখের যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
বসার ক্ষেত্রে অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বসার সময় চেয়ারে যেন কোনো শব্দ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। পুরো সময়জুড়ে নিজের নার্ভ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখিত বলুন। ভুল উত্তর দেওয়া বা জানার ভান করা থেকে বিরত থাকুন।
বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে তর্কে জড়ানো যাবে না। অনেক সময় প্রার্থীর ধৈর্য পরীক্ষার জন্য অপমানসূচক প্রশ্ন করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসিমুখে উত্তর দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। পুরো ভাইভা জুড়ে হাসিমুখ বজায় রাখা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভাইভা শেষ করে বের হওয়ার সময় বোর্ড সদস্যদের সালাম দিন। কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দরজা খোলা বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন যেন কোনো অযথা শব্দ না হয়।
এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন ৪৭তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাবেদ হোসেন। সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসই ভাইভা বোর্ডে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি।
আর ২ দিন পরের ভাইভা প্রস্তুতিতে প্রার্থীরা যা যা অনুসরণ করতে পারেন।
এ ছাড়া বাকি চয়জেগুলো সম্পর্কে বেসিক জিনিসগুলো জানতে হবে।
যেমন পদসোপান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো।
নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার কী ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন?
ইংরেজিতে যেকোনো বিষয়ের ওপর বক্তব্য (স্পিচ) দিতে বলতে পারে।
ভাইভতে খুব কমন একটা প্রশ্ন Introduce Yourself অথবা নিজের Strong Zone, Weakzone সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন স্যাররা।
বিশেষ করে বেসিক জিনিসগুলো পড়ে যেতে হবে।
যতক্ষণ না বসতে বলা হয়, ততক্ষণ বসবেন না।
বিজ্ঞ বোর্ড মেম্বারদের সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না।



