জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকার কারণে দেশের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজিবিষয়ক সম্মেলনের শেষ দিনে এমন চিত্র উঠে আসে। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে নাগরিক প্ল্যাটফর্মও যুক্ত ছিল।
সম্মেলনের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও এসডিজি বিষয়ক অধিবেশনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। মিরপুর মাজার রোডের ভ্যানচালক মো. ওয়াসিম জানান, ছিন্নমূল অনেক মানুষেরই এনআইডি নেই। তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী জানান, এনআইডি করতে গিয়ে তাদের নানা জটিলতায় পড়তে হয়। এছাড়া তরুণ সমাজের প্রতিনিধি সোহানুর রহমান অভিযোগ করেন, বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এনআইডি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এনআইডি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কেবল প্রবৃদ্ধির হার নয়, উন্নয়নের কাঠামো ও গুণগত মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে এবং বৈষম্য বেড়েছে। এছাড়া প্রতি তিনজন শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে একজন বেকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে নীতি প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।
সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান জানান, মূলত জন্মনিবন্ধন না থাকার কারণেই এনআইডি পেতে জটিলতা তৈরি হয়। তিনি এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১১০তম। হাতে পাঁচ বছরের কম সময় থাকায় দ্রুতগতিতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ দিনের প্রথম অধিবেশনে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থাপনা প্রদান করেন। উন্মুক্ত আলোচনায় সমাজের বিভিন্ন প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সরাসরি তাদের দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।



