রাশিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ১০ শতাংশ সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাতে পেলে মস্কোর ছোড়া সব ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কিয়েভের হাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র এক-দশমাংশ মজুত রয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল।
জেলেনস্কি জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর তাদের কাছে আড়াই গুণ কম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। অথচ একই সময়ে রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর গত জুলাই মাস ছিল ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। মার্কিন মজুতের মাত্র ৫ শতাংশ পেলেও আসন্ন শীতকালে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র জোগাড় করতে তিনি প্রতিদিন নানা অপ্রকাশযোগ্য সমঝোতা ও যোগাযোগের মাধ্যমে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের কারণে ইউক্রেন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর আগে ন্যাটোর আঙ্কারা সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বর্তমানে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই সংকট কাটাতে জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসের সহায়তা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং সম্প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, ডনবাসের বাকি ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিয়ে কোনো ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি সতর্ক করেছেন যে, পুতিন ন্যাটোভুক্ত কোনো ছোট বাল্টিক দেশে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের বিজয়ের চেষ্টা করতে পারেন।



