ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত নজিরবিহীন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বা বড় ধরনের আর্থিক অভিযানের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের কোনো অংশ দিয়েই বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সামরিক হামলার কারণে ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে স্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘এই সমস্যাগুলোর জন্য আমরা দুঃখিত। আমরা বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
প্রেসিডেন্টের এই সতর্কবার্তার মধ্যেই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর বার্তা দিয়েছে। পরিষদের সচিব মহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ যদি চলতে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের কোনো অংশ থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেয়া হবে না।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তা করা যেকোনো দেশকে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।
এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট লিখেছিলেন, ‘ভোর হতেই শুরু হবে একটি অর্থনৈতিক ডি-ডে, যা কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান।’ ওয়াশিংটন মূলত চীনকে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ইরানের রপ্তানি করা তেলের একটি বড় অংশ চীনে যায়। অন্যদিকে চীনের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান করা সম্ভব।



