নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি মাটি ও পাথরের বিশাল স্তর নদীতে ধসে পড়ায় এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। নেপাল অংশে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চল থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ১২ জন বৃটিশ এবং তিনজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, আরও আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী গিরং এলাকায় ভূমিধসের পর বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সিসিটিভির তথ্যমতে, গিরং সীমান্ত এলাকায় অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দেড় মিটার গভীর কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিধসটি নেপালের অংশে শুরু হয়ে সীমান্তের গিরং বন্দরে আঘাত হানে, যার ফলে তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলের সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা পাহাড়ধস থেকে বন্যার সূত্রপাত হতে পারে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজের সময়ের প্রায় সাত মিনিট আগে ওই এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞ কিয়াংগং ঝাংয়ের মতে, নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের ধস এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, নদীর উজানে এখনো বড় ধরনের বাধা আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় আরও বড় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির মোট ৩.২ গিগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশেরও বেশি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যুক্ত হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুয়ার জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং ভারত ও নেপালের সংশ্লিষ্ট দলগুলো উদ্ধারকাজে সমন্বয় করছে। এছাড়া নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহার রাজ্যে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যায় ৯ জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। সেই সময় নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগকারী ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ ভেসে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছিল। আঞ্চলিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে, গত বছরের ওই বন্যার কারণ ছিল তিব্বতের একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল হ্রদের পানি বেরিয়ে যাওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালের রাসুয়া জেলার শ্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না এবং নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ওপরে অবস্থান করছে। চাকরির আরও তথ্য: এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এখনও উদ্ধার অভিযান চলমান। চাকরির আরও তথ্য: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুরো গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চাকরির আরও তথ্য: যাচাই করা ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষকে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। চাকরির আরও তথ্য: দুই দেশের কর্তৃপক্ষই আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।নেপালে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্প পানির স্রোতে ভেসে গেছে। চাকরির আরও তথ্য: হিমালয় থেকে নেমে আসা কয়েকটি নদী এসব রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: চীন-নেপাল সীমান্তের চীনা অংশে থাকা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল পাথর, কাদা ও পানির স্রোত ধেয়ে আসার আগে মানুষজন দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছেন। চাকরির আরও তথ্য: এরপর ওই স্রোত ভবন ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।



