তুরস্ক ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ৫ বিলিয়ন ডলার

, বিশ্ব

তুরস্ক ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ৫ বিলিয়ন ডলার

গত ২১ বছরে তুরস্ক ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আঙ্কারায় কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত এই তথ্য জানান। দুই দেশ এখন তাদের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো নির্মাণ কাজের সময় এই বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বর্তমানে কার্যকর থাকা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (টিইপিএ) এই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো কাতারের উন্নয়নে বড় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত তুর্কি ঠিকাদাররা কাতারে ২০৬টি প্রকল্পে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের কাজ সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি কাতারে বর্তমানে ১,১১৬টি তুর্কি কোম্পানি নির্মাণ, সেবা ও উৎপাদন খাতে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কে কাতারের প্রায় ২৫০টি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে, যার মোট পরিমাণ ৭.৮ বিলিয়ন ডলার। এই বিনিয়োগগুলো মূলত অর্থ, ব্যাংকিং, জ্বালানি, লজিস্টিকস, গণমাধ্যম ও কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বিস্তৃত। কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত জানান, সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে নতুন ট্রানজিট করিডোর তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। তুরস্ক বর্তমানে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ভোক্তা পণ্যের চাহিদা পূরণে কাজ করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পাদিত ট্রানজিট চুক্তির আওতায় তুরস্কের পণ্যবাহী যান সিরিয়া ও জর্ডান হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া ইরাক ও সৌদি আরবের ওপর দিয়েও পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব বিকল্প ট্রানজিট ও বাণিজ্য করিডোরকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে তুরস্ক ও কাতার যৌথভাবে কাজ করবে।

দুই দেশের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও ২০২৫ সালের অক্টোবরে তুরস্ক-কাতারের সুপ্রিম স্ট্র্যাটেজিক কমিটির বৈঠকে এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা এখন সেই লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প বাণিজ্যপথের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন বোলাত।