স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির কৌশল ও মানদণ্ড

, বাংলাদেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির কৌশল ও মানদণ্ড

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলটির হাইকমান্ড এলাকায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দলটি। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার যে শঙ্কা রয়েছে, তা নিরসনে তৃণমূলের ইউনিটগুলোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিতর্কিত বা দলের নাম ভাঙিয়ে সুবিধাভোগীদের কোনোভাবেই মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে নীতিনির্ধারণী মহল।

বিএনপির সিনিয়র নেতা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, স্থানীয় এমপিদের সাথে সমন্বয় করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। তবে সমঝোতা না মানলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পাবে।

দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আসন্ন নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার পর্যায়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। এর আগে গত ৯ই মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার আহ্বান জানান। নেতাকর্মীদের জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, তৃণমূলের ইউনিটগুলো স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে একক প্রার্থী ঠিক করবে। জেলা কমিটির সহায়তায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে বর্তমানে দায়িত্বরত প্রশাসকদের মধ্য থেকেও যোগ্যদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাদের কাজের মূল্যায়ন এবং সফলতার ওপরই এই মনোনয়ন নির্ভর করবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত যোগ্যতা অনুযায়ী এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। একই সুর শোনা গেছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের কণ্ঠেও। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের কাছে জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এ লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।