সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা হয়নি। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি একান্তই তার ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট অনির্দিষ্টকাল চলতে দেওয়া যায় না, তাই যথাযথ সময়ে তিনি তার ফেরার তারিখ ও পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ শুধু দেশের জন্যই নয়, ভারতের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্তত ৬০০টি বানোয়াট মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে তিনি তার পরিবারকে হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৭০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। মাথাপিছু আয় ৪৮২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ২৭৮৪ ডলার এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮০ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ২.২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শিল্পখাত ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির রেকর্ড করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৯ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না এবং গ্যাসের অভাবে ছয়টি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিই বন্ধ হয়ে আছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের এমন কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার পেছনে এত অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা কী?
নিজের ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, জয় বাংলাদেশকে ‘আরেকটি পাকিস্তান’ হওয়ার যে আশঙ্কার কথা বলেছে, তা কোনো আবেগপ্রসূত বক্তব্য ছিল না। এটি ছিল দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। তিনি কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে নব্য-জেএমবিসহ উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ধর্মীয় উন্মত্ততা ও সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতাকেও দুর্বল করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের সময় থেকেই এই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি অতীতেও একসঙ্গে ছিল এবং বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূস তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, তার সরকার ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিল। এখন বর্তমান সরকার চীনের সঙ্গে কাজ করছে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যখাতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, যার ফলে হাজার হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।
পরিশেষে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ভারতে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং এর জন্য ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে দেশের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তিনি তার নিজের দেশেই ফিরবেন। চাকরির আরও তথ্য: তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর ইস্যুর সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চাকরির আরও তথ্য: অজ্ঞাত স্থান থেকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারটি এখানে প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো। চাকরির আরও তথ্য: আওয়ামী লীগের যেসব নেতা স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন, আপনি কি তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। চাকরির আরও তথ্য: আপনার সংবাদ সম্মেলনে কেন বলেছেন দেশে ফিরলে আপনাকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা হতে পারে। চাকরির আরও তথ্য: উত্তর: আমি বলেছি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবো। চাকরির আরও তথ্য: কারণ, বাংলাদেশকে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।



