বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের একাদশ ও দ্বাদশ আসরে দুর্নীতিবিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক আবদুল কাইয়ুম রাশেদ এবং দুর্বার রাজশাহীর ম্যানেজার আমিন খান। বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই কর্মকর্তাকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। উল্লেখ্য, গত আসরে ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস চট্টগ্রাম রয়্যালসের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলেও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিসিবিকে চিঠি দিয়েছিলেন কাইয়ুম, যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে বিসিবি নিজেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পরিচালনা করে।
আবদুল কাইয়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী কোডের চারটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
- এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফলাফল বা যেকোনো অংশ বেআইনিভাবে প্রভাবিত করা, ফিক্সিং সংক্রান্ত পরিকল্পনা বা চুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা এবং দুর্নীতির কোনো প্রস্তাব পেলে তা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবিরোধী অফিসারকে না জানানো।
- তদন্তকাজে অসহযোগিতার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত মূল মোবাইল ফোনটি জমা দেওয়ার নির্দেশ না মানা এবং তদন্তে বাধা তৈরির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আমিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- রাজশাহীর ম্যানেজার আমিন খানের বিরুদ্ধেও চারটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
- ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করা বা ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি অন্য কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাকে দুর্নীতির পথে প্ররোচিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য বা মেসেজ লুকিয়ে ফেলা এবং ধ্বংস করার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা বা বিলম্বিত করার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত এই দুই ব্যক্তিকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের পরবর্তী কার্যক্রমের ভিত্তিতে বিসিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিপিএলের মতো বড় একটি টুর্নামেন্টে এমন দুর্নীতি ও তদন্তে অসহযোগিতার ঘটনা ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।



