জার্মানি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দায়িত্বেই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগের চার ম্যাচের জন্য তিনি একযোগে দুটি পৃথক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। ৪৫ জন খেলোয়াড়কে দুই ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি স্কোয়াডের জন্য দুটি করে ম্যাচ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথাগত দল নির্বাচনের বাইরে এসে ক্লপের এই উদ্যোগের ফলে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ জাতীয় দলে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।
ক্লপের অধীনে জার্মানি তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমস্টারডামে। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে গ্রিসের মোকাবিলা করবে দলটি। দ্বিতীয় স্কোয়াডের ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ১ অক্টোবর সার্বিয়া এবং ৪ অক্টোবর গ্রিসের বিপক্ষে। ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো স্কোয়াডই প্রথম বা দ্বিতীয় সারির নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো এ বা বি দল তৈরি করিনি। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়া।’
খেলোয়াড়দের শারীরিক ধকল কমানো এবং বড় পুলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ক্লপ জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা যেকোনো দলের জন্যই বেশ অস্বাভাবিক চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি স্কোয়াডে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সংমিশ্রণের পাশাপাশি পজিশন অনুযায়ী ভারসাম্য রাখা হয়েছে। তবে একটি ব্যতিক্রমও আছে; গোলকিপার ফিন দাহমেন দুই স্কোয়াডেই জায়গা পেয়েছেন। প্রথম স্কোয়াডের কয়েকজন খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় সপ্তাহের ম্যাচগুলোতেও রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কোচের।
ফিফা বিশ্বকাপের দলের ১৬ জন খেলোয়াড় ক্লপের এই নতুন দুই স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন। এছাড়া ১১ জন ফুটবলার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেলেন। দীর্ঘ ১৫ মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। তবে এই দলে জায়গা পাননি লেরয় সানে ও ডেনিস উনদাভ। দলের গভীরতা বাড়াতে এবং তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিতে ক্লপের এই নতুন কৌশল জার্মান ফুটবলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খেলোয়াড়দের ওপর চাপ কমানো এবং বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়কে দেখার সুযোগ তৈরি করতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন জার্মানির নতুন কোচ।



