ব্যাংকের পরিচালক হতে কোম্পানির মালিকানা বাধ্যতামূলক

, ব্যাংক

ব্যাংকের পরিচালক হতে কোম্পানির মালিকানা বাধ্যতামূলক

ব্যাংকিং খাতের সুশাসন জোরদার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে নতুন এক নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো কোম্পানির মালিকানা না থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি ব্যাংকের পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে পারবেন না। অর্থাৎ, ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকানায় থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্যমতে, ব্যাংক ও কোম্পানির মালিকানার কাঠামোর মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে আমানতকারীদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদে শৃঙ্খলা আনা জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই বিধিনিষেধের ফলে ব্যাংক পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নতুন এই নির্দেশনায় মনোনীত বা প্রতিনিধি পরিচালকদের দায়িত্ব ও ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইছে, কোনো প্রতিনিধি পরিচালক যাতে নিজের বা কোম্পানির স্বার্থে ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের ঝুঁকির মুখে না ফেলেন। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা দূর করতেই এই কঠোর বিধান আনা হয়েছে।

শুধু পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেই নয়, কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো কোম্পানি তার নিজস্ব সম্পদমূল্যের চেয়ে বেশি পরিমাণে কোনো ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। অর্থাৎ, কোম্পানির সম্পদের পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংকের শেয়ারের সামঞ্জস্য বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ব্যাংক বা কোম্পানি অতিরিক্ত আর্থিক ঝুঁকির মুখে না পড়ে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকে কোম্পানির মনোনীত পরিচালকরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শেয়ার ধরে রেখেছেন, তাদের এখন নতুন নিয়মের অধীনে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমিয়ে পেশাদারিত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া মনোনীত পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে এ–সংক্রান্ত নতুন বিধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।