যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ম্যানহাটনে প্রায় এক ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের একটি বড় আবাসন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেয়রের কাজের প্রশংসা করে তাকে একজন দক্ষ মেয়র হিসেবে গড়ে ওঠার শুভকামনা জানান।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি তাকে ‘আমার ছোট কমিউনিস্ট’ এবং ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি। তবে মেয়র নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সম্পর্কের কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে ট্রাম্প বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাদের তৃতীয় প্রকাশ্য সাক্ষাৎ।
বৈঠকের এক পর্যায়ে অভিবাসন ইস্যু গুরুত্ব পায়। মামদানি জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে নিউইয়র্কবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসনের গণহারে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিতাড়ন এবং হাজারো অভিবাসীর ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বাতিলের বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।
শহরের আবাসন সংকট নিরসনে ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব নিয়েও দুই নেতার কথা হয়েছে। মামদানি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই এই প্রকল্পটি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছিল। এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে আনুমানিক ২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের সঙ্গে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মামদানি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুজনের পদ্ধতি ও বিশ্বাসের জায়গাগুলো একদমই ভিন্ন। তবে শহরের মানুষের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে—এমন সবার সাথেই আমি আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’
বৈঠকের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিকে ঘিরেও আলোচনা হয়েছে। এর আগে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর মতো শীর্ষস্থানীয় নেটওয়ার্কগুলোকে হোয়াইট হাউস বর্জন করায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সফরের সংবাদ প্রকাশে অনীহা দেখায়। মামদানি জানান, তিনি ট্রাম্পকে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সব সংবাদকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মেয়রের সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামদানি মন্তব্য করেন, সমালোচনা বা ভিন্নমত যাই হোক না কেন, সবাইকে আলোচনার টেবিলে যুক্ত রাখা উচিত। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম বর্জনের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা আমাকে বর্জন করার কথা বললেও বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি, তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। ইরান যুদ্ধের সমালোচনা থেকে নজর সরাতেই এই নিষেধাজ্ঞা—এমন ধারণা তিনি নাকচ করে দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি বলতে পারব, আপনি দারুণ মেয়র হতে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে তার ‘খুব দৃঢ় মতামত’ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের সময় তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো তার কর্মকাণ্ডের খবর প্রায় বর্জন করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া সংবাদমাধ্যমগুলো হলো সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো।



