কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শুল্ক যুদ্ধ, খনিজ সম্পদসহ নানা ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অস্থিরতা ও সম্পর্কের শীতলতা নিরসনে চীন তার পুরোনো ‘পান্ডা কূটনীতি’ নতুন করে সামনে এনেছে। ওয়াশিংটন সফরকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা চিড়িয়াখানায় দুটি বিশালাকার পান্ডা পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে একে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংয়ের এটি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক আয়োজনে প্রেসিডেন্ট শি জানান, চেংদুর প্রজনন কেন্দ্র থেকে পিং পিং ও ফু শুয়াং নামের দুটি পান্ডা দ্রুতই জর্জিয়ার আটলান্টা চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আটলান্টার আগের পান্ডাগুলো চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কূটনৈতিক এই উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন তরুণ শিক্ষার্থীকে চীনে উচ্চশিক্ষার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তন ছাড়াই সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে বেইজিং পান্ডা লিজের এই কৌশলটি বেছে নিয়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পান্ডা আদান-প্রদানের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের পর চীন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এক জোড়া পান্ডা উপহার পাঠিয়েছিল। তবে ১৯৮৪ সাল থেকে উপহারের পরিবর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদে পান্ডা লিজ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে বেইজিং। সেই ধারার ধারাবাহিকতায় এবারও দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে এই প্রতীকী কূটনৈতিক হাতিয়ার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



