ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আগামী বুধবার বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে চলেছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষবারের মতো মাঠে নামার উপলক্ষ। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বিদায়ী ম্যাচ শেষে মেসির পরা অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি বিশেষ মর্যাদায় সংরক্ষণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই আর্মব্যান্ডটি ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড় মাঠে ব্যবহার করতে পারবেন না, বরং স্থায়ীভাবে জাদুঘরে সংরক্ষিত রাখা হবে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির দীর্ঘ, কণ্টকাকীর্ণ অথচ গৌরবময় পথচলায় এই আর্মব্যান্ডটি ছিল তার অবিসংবাদিত নেতৃত্বের প্রধান প্রতীক। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং আর্জেন্টিনার বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ জয়ের মতো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুবর্ণ ও জাদুকরী মুহূর্তগুলোতে তার বাহুতেই শোভা পেয়েছে এই বিশেষ আর্মব্যান্ডটি। সময়ের পরিক্রমায় এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যের একটি পবিত্র ও অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে, যা দলের দীর্ঘ শিরোপা খরা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন স্বর্ণালি যুগের সূচনা করেছিল।
ফুটবল ইতিহাসে এ ধরনের সংরক্ষণের নজির খুব বেশি নেই। এর আগে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনার ব্যবহৃত আর্মব্যান্ড একইভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে আন্তোনিও রাত্তিন, দানিয়েল পাসারেলা কিংবা হ্যাভিয়ের মাসচেরানোর মতো অন্য কিংবদন্তি অধিনায়কদের ব্যবহৃত সামগ্রী জাতীয় পর্যায়ে এমন স্থায়ী সংরক্ষণের উদ্যোগের নজির পাওয়া যায় না। এ কারণে মেসির এই আর্মব্যান্ড সংরক্ষণের সিদ্ধান্তটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে অনেক বেশি গভীর তাৎপর্য বহন করছে।
এটি কেবল একজন অধিনায়কের ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, বরং আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে সফল সময়ের একটি জীবন্ত দৃশ্যমান দলিল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থকের কাছে এই আর্মব্যান্ডটি হয়ে উঠবে মেসির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক পরম আরাধ্য স্মৃতি। যখন সবুজ মাঠ ছেড়ে এই নেতৃত্বের প্রতীকটি জাদুঘরের কাচের বাক্সে ঠাঁই নেবে, তখন তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে লিওনেল মেসির সেই দীপ্তিময়, দীর্ঘ ও জাদুকরী অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেবে।



