ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দুই তারকা বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। দীর্ঘ সময় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সুবাদে মাঠের ভেতরে ও বাইরে গড়ে উঠেছে তাঁদের গভীর বন্ধুত্ব। অথচ প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জানিয়েছেন, শুরুর দিকে কোহলিকে তাঁর ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল। ক্রিকেট মাঠে দুজনের রসায়ন ছিল দেখার মতো। মাঠের বাইরেও তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প কম মধুর নয়। ইনস্টাগ্রাম থেকে যেভাবে শুরু কোহলি-জোকোভিচের ‘ডিজিটাল’ বন্ধুত্ব।
সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে ডি ভিলিয়ার্স এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রথম দর্শনেই কোহলিকে অহংকারী মনে হয়েছিল কি না। উত্তরে ডি ভিলিয়ার্স অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর ধারণাটি তেমনই ছিল এবং তিনি বিশ্বাস করেন কোহলি নিজেও এখন বিষয়টি নিয়ে একমত হবেন। সেখানেই উঠে এসেছে ভারতীয় তারকাকে নিয়ে তাঁর প্রথম ধারণার কথা। উত্তরে কোনো রাখঢাক করেননি তিনি, ‘হ্যাঁ।
ডি ভিলিয়ার্সের মতে, আত্মবিশ্বাস ও অহংকারের মধ্যে সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে, যা অনেক সময় গুলিয়ে ফেলা সহজ। আসলে অহংকার আর আত্মবিশ্বাসের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে।
১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সের সেই তরুণ কোহলির মধ্যে ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাস। মাঠের খেলায় কোহলির সেই প্রবল মানসিক শক্তিকেই তখন তিনি দাম্ভিকতা হিসেবে ভুল বুঝেছিলেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুর দিকে সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোহলির বেলায় ডি ভিলিয়ার্সেরও সেটাই হয়েছিল।
ডি ভিলিয়ার্স আরও যোগ করেন যে, বড় মাপের ক্রিকেটার হওয়ার পথে এমন প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাস অপরিহার্য। নিজের সামর্থ্যের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়া সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানো কঠিন। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ শেখে কীভাবে সেই আত্মবিশ্বাসকে সঠিক পথে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোহলির ব্যক্তিত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তাও উল্লেখ করেন প্রোটিয়া তারকা। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোহলির সেই আগের অস্থিরতা ও অন্যদের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার মরিয়া ভাব কমে এসেছে। এখনকার কোহলি অনেক বেশি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ একজন ক্রিকেটার।
কোহলির সাথে প্রথম পরিচয়ের সেই স্মৃতি এখন ডি ভিলিয়ার্সের কাছে কিছুটা রসিকতার বিষয়। প্রথম দেখায় যাঁকে অহংকারী মনে হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে সেই কোহলিই আজ তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের এই সম্পর্কটিই প্রমাণ করে যে, প্রথম দেখায় হওয়া ধারণা সবসময় শেষ কথা নয়।
মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে আইপিএলে একসঙ্গে খেলার সময় একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। সেই বন্ধুত্বই এখন গভীর এক আত্মিক সম্পর্কে পরিণত হয়েছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।



