সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এম. এ মোতালিব ভূঁইয়া নামে এক সাংবাদিকের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারে বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয়ে বসে থাকা অবস্থায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় সাংবাদিক মোতালিবের হাতের রগ কেটে গেছে এবং তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মোতালিব ভূঁইয়া দৈনিক সংবাদ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, রোববার রাতে কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় চিহ্নিত মাদক কারবারি আহাদ ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা রামদা, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করে। পরে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ নানা চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাংবাদিক মোতালিব এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা পালানোর চেষ্টা করেন।
এর আগেও এই চক্রটির প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে সাংবাদিক মোতালিবের পরিবারকে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রায় দেড় মাস আগে মোতালিবের দুই ভাই কবির ভূঁইয়া ও মামুন ভূঁইয়ার ওপরও একইভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। একের পর এক হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, আটককৃত আহাদ একজন মাদক কারবারি। সম্প্রতি পুলিশ ও বিজিবি সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মদ ও চোরাই মালামাল জব্দ করেছে। পুলিশের দাবি, এসব জব্দ অভিযানের ফলে মাদক কারবারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি থানার ওসিকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।



