পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে আইএইচএফ নেশন্স ট্রফিতে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার মালদ্বীপকে ৩৩-২০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্বাগতিকরা টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ১৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, এরপর দ্বিতীয়ার্ধেও সমান তালে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বড় জয়ের হাসি হাসে স্বাগতিকরা। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মোসাম্মৎ সানজিদা আক্তার ৮ গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। ম্যাচের প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১৭-৫ গোলের বড় ব্যবধান গড়ে তোলে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য পূরণ করে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ারের দল নিশ্চিত করেছে শিরোপার লড়াই।
টুর্নামেন্টের শুরুটা নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে করেছিল বাংলাদেশ। তবে রাউন্ড রবিন লিগের অন্য ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলে পরাজিত হতে হয়েছিল দলটিকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় শিরোপার লড়াইয়ে আবারো ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। তার আগে বুধবার দুপুর ২টায় মালদ্বীপ ও নেপাল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে। দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপ ১৫ গোল করলেও বাংলাদেশ করে আরও ১৬ গোল।
ম্যাচ শেষে সানজিদা আক্তার জানান, ঘরের মাঠে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু ফাইনালে ঢেলে দেবেন। ভারতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় দলটি আমাদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুবিধা পায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সাধারণত চার থেকে পাঁচ মাসের ক্যাম্পে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান, যা সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করে। ফাইনালে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। সীমিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে হয় তাদের।
দলের আরেক খেলোয়াড় সাকিবা জান্নাত শাম্মীও ভারতের শক্তির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় ভারত বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী শাম্মী। আপাতত ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং মানসম্মত ম্যাচ উপহার দেওয়াই লক্ষ্য বলে জানান তিনি।



