নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজ ঘটনার রহস্য নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

, বাংলাদেশ

নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজ ঘটনার রহস্য নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গত কয়েক মাসে একের পর এক নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বয়সী অন্তত পাঁচজনের অকাল প্রয়াণে এলাকাবাসী স্তম্ভিত। নিখোঁজ হওয়ার পর কেন সময়মতো তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা নিয়ে জনমনে এখন অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনার তদন্তে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের নিশানা করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্নভাবে খোঁজ চালানো হয়।

সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর রায়পুরার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকার ঝোপ ও কচুরিপানার ভেতর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু তারেকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় মালয়েশিয়াপ্রবাসী জিয়াউর রহমানের ছেলে। পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ১৫ অক্টোবর নিজের সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্তমানে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগের দিন ১৮ অক্টোবর আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে আরমান ফকির (২৪) নামের এক যুবকের গলিত দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ভাটিবদরপুর এলাকার সালাহউদ্দিন ফকিরের সন্তান এবং ১১ অক্টোবর থেকে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি চর মরজাল গ্রামের পশ্চিমপাড়ার জামাল মিয়ার ছেলে।

এর আগে ১৩ অক্টোবর মরজাল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে ১৮ বছর বয়সী বাক্‌প্রতিবন্ধী রহমত উল্লাহর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের দাবি, নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ৫ অক্টোবর আদিয়াবাদ ইউনিয়নের বড়বিল এলাকা থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মনির হোসেনের দেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই মামলার তদন্তে নরসিংদীর ঘোড়াশাল ও কুমিল্লার লালমাই থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের দেওয়া তথ্যে চুরি হওয়া অটোরিকশার চারটি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে গত ২৯ জুন পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের শিশু তাসকিয়ার দেহ চার দিন পর বাড়ির পাশের জমি থেকে উদ্ধার করা হয়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, থানায় নিখোঁজের জিডি হওয়া মাত্রই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং মুঠোফোন ব্যবহার করলে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। তবে অটোরিকশাচালকদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বেশি ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে। তিনি অটোরিকশাচালক ও তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। রায়পুরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রায়পুরায় ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।