টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা একজন খেলোয়াড়ের মূল দায়িত্ব থাকে উইকেটে টিকে থেকে দলের স্কোর কিছুটা বাড়ানো। তবে ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ব্যাট হাতে এমন এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন, যা আজও ক্রিকেট বিশ্বে বিস্ময়ের জন্ম দেয়। যে ওয়াসিম তার ক্ষুরধার সুইং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করতেন, সেদিন ব্যাট হাতে তিনি হয়ে ওঠেন এক দুর্ধর্ষ ব্যাটার। কিন্তু ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ব্যাট হাতে এমন এক কাণ্ড করেছিলেন, যা আজও বিশ্ব ক্রিকেটের এক বিস্ময়কর ঘটনা হয়ে রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেখুপুরা টেস্টে পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ওয়াসিম। সেদিন আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি মাঠজুড়ে তাণ্ডব চালান। ৩৬৩ বল মোকাবিলা করে ২৫৭ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন এই বাঁহাতি। তার এই ঐতিহাসিক ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ১২টি বিশাল ছক্কা। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। একই সঙ্গে এক ইনিংসে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের ব্যাটার ওয়ালি হ্যামন্ডের দীর্ঘদিনের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান।
ওয়াসিমের এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। ওয়াসিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং আর সাকলাইনের ধৈর্যশীল খেলার মিশেলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের একটি বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে সংগ্রহ করেন ৭৯ রান, যা পাকিস্তানকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। ম্যাচে পাকিস্তানের বিশাল স্কোর সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফলাফল আসেনি এবং টেস্টটি ড্র হয়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ওয়াসিম আকরামের সেই ২৫৭ রানের ইনিংসটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, যা প্রমাণ করে দেয় তিনি শুধু বল হাতেই বিশ্বসেরা ছিলেন না, বরং ব্যাট হাতেও ইতিহাস গড়ার অসাধারণ দক্ষতা তার ছিল। মাঠে নামার পর থেকেই তার ব্যাটিংয়ে ছিল প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মেজাজ ও চমৎকার টাইমিং। একদিকে ওয়াসিমের চার-ছক্কার তাণ্ডব, অন্যদিকে সাকলাইনের চরম ধৈর্য—দুইয়ে মিলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের এক বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে ৭৯ রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন।



