সাকিবকে বিসিবির মেন্টর করার পরামর্শ ইয়ান বিশপের

, খেলা

সাকিবকে বিসিবির মেন্টর করার পরামর্শ ইয়ান বিশপের

দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেকের পর দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক রেকর্ড গড়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এই অলরাউন্ডার। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীকে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার পরিচিতি ও পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে কোচ বা মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানো যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বর্তমানে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ধারাভাষ্য দিতে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সাকিব কেন বর্তমানে দলের বাইরে আছেন বা তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জটিলতা সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা নেই। সংবাদমাধ্যমের বাইরে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকেন।

সাকিব প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বিশপ। তিনি নিজের দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদাহরণ টেনে বলেন, ব্রায়ান লারা, কার্টলি অ্যামব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার ও গর্ডন গ্রিনিজের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ক্রিকেটীয় উন্নতির জন্য ব্যবহার করা প্রয়োজন। কাইরন পোলার্ড, ডোয়াইন ব্রাভো কিংবা ড্যারেন স্যামির মতো খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে ক্যারিবীয় ক্রিকেট যেভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তেমনটা আশা করেন তিনি। ক্যারিবীয় অঞ্চলেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’।

বিশপ মনে করেন, বছরের পর বছর ধরে অর্জিত এসব কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের জ্ঞান যেন হারিয়ে না যায়। তার মতে, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের স্কুলপড়ুয়া শিশুদেরও এসব অভিজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে দেশের ক্রিকেট কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এইচপি দলে মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন, তাই এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আবার স্কুলপর্যায়ের শিশুদেরও শেখাতে পারেন। বাংলাদেশেও এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।