রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় গত শুক্রবার দুপুরের খাবার পরিবেশনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এক হামলায় বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই ঘটনার পর গুরুতর আহত তাঁর সহকারী সোনাবান বিবিও (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আজ শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তিনি মারা যান। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ার সময় মো. সেন্টু (৪২) নামের এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে খাবার দাবি করেন। খাবার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের চলা দিয়ে ফজের আলী ও সোনাবান বিবির মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই ফজের আলীর মৃত্যু হয়। সোনাবান বিবিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু (৪২)। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবিকেও মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত মো. সেন্টুকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সেন্টু দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। বর্তমানে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেন্টুর স্বজনদের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম। প্রায় ১০ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে ভবঘুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। চিকিৎসক ছাড়পত্র দিলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে, প্রয়াত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী সোনাবান বিবির বাড়ি গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর এলাকায়। ফজের আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



