খুলনা অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু আজ

, বাংলাদেশ

খুলনা অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু আজ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ সাত দফা দাবিতে খুলনা বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় এই লংমার্চের বহর যাত্রা শুরু করে। সমাবেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। সকাল সাতটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হলেও এর আগেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছয় শতাধিক গাড়ি নিয়ে শুরু হওয়া এই লংমার্চের বহরে পথে আরও প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সোয়া চার শ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ১৯টি জেলায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ছয় দফা দাবিতে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রংপুরে দ্বিতীয় লংমার্চের সময় আঞ্চলিক দাবি হিসেবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টিও এতে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে সাত দফার মধ্যে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ৬০০-এর বেশি গাড়ি লংমার্চের বহরে অংশ নেবে। সোয়া চার শ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই সড়কপথে লংমার্চ ঘিরে ১৯ জেলার নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লংমার্চের বহরটি পদ্মা সেতু হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পথসভা করবে। যাত্রাপথের সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড় (সকাল ১১টা), খুলনা মহানগরের বাবরী চত্বর (বেলা সাড়ে ১২টা) এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে (দুপুর ২টা) পথসভা করার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে বিকেল ৫টায় পথসভার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপুল সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির শেষ গন্তব্য হলো কুষ্টিয়া। রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভার মাধ্যমে আজকের এই কর্মসূচি শেষ হবে। গত দুটি লংমার্চের তুলনায় আজকের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া রুটের এই কর্মসূচিটি আরও বড় ও সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় আজকের কর্মসূচিতে আরও বড় জমায়েত হবে।