দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই তিন মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর শরীরে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। এবার তিনি ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও পরীক্ষায় এটি ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। রোববার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই নতুন লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন সামিয়া।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল সামিয়ার। তাই মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে তিনি নিজেই চুল ছোট করে নতুন লুক নিয়েছেন। এই পরিবর্তনের মুহূর্তটি ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের এই কঠিন সময়টাকেও তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে চান। সামিয়া জানান, প্রথমবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল, কিন্তু এবারের কেমোথেরাপির অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্নধর্মী।
সামিয়া আফরিনের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের শুরু ২০২২ সালের এপ্রিলে। শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে তাঁর শরীরে ক্যানসারের জীবাণুবাহী টিউমার ধরা পড়ে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে বিস্তারিত পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি কোলন ক্যানসারের চতুর্থ ধাপে রয়েছেন এবং রোগটি ফুসফুস ও লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে এই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া তাঁর জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। এমনকি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কায় তিনি এক পর্যায়ে চিকিৎসা না নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি ইমিউনোথেরাপি শুরু করেন। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে প্রতি ২১ দিন অন্তর ডোজ নিতে হতো। সেই সময় চিকিৎসার ধকল সামলাতে গিয়ে তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়তেন যে, কখনো ১০ কদম হাঁটার শক্তিও অবশিষ্ট থাকত না। শরীর কাঁপত এবং ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিত। তবে অসুস্থতাকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে বসাতে নারাজ ছিলেন সামিয়া। তিনি মানসিকভাবে নিজেকে অসুস্থ ভাবতে রাজি ছিলেন না। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি অফিস, কাজ এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। এমনকি ডোজ নিয়ে বাসায় ফিরে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়েই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেরিয়ে পড়তেন তিনি।
দীর্ঘ দুই বছরের চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়ে এসেছিল এবং চিকিৎসকরাও ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে থাকার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। দীর্ঘ সময় কোনো চিকিৎসাও নিতে হয়নি তাঁকে। সেই স্বস্তির সময় পেরিয়ে এখন নতুন করে কেমোথেরাপির লড়াইয়ে নেমেছেন সামিয়া। তবে পাঁচ বছর আগের সেই অদম্য মানসিক শক্তি নিয়েই তিনি বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চান। চুল পড়ে যাওয়ার আগেই নতুন লুক গ্রহণ করার মাধ্যমে তিনি যেন বার্তা দিলেন যে, পরিস্থিতি যেমনই হোক, জীবনকে নিজের মতো করে সাজিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের এক সাক্ষাৎকারে সামিয়া জানিয়েছিলেন, শুরুতে তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে ক্যানসার হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতেন, নিয়মিত শরীরচর্চাও করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম দিকে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারসহ এমন কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির কথা জানিয়েছিলেন, যাতে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যয়বহুল সেই চিকিৎসাপদ্ধতিতেই শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাউকে বুঝতে দিতে চাননি ইমিউনোথেরাপির প্রথম কয়েক মাস সামিয়ার জন্য সহজ ছিল না।



