ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী: কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

, বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী: কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি আজ তেহরান সফর করছেন। সেখানে তিনি ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। দোহা মনে করছে, এই সফরের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।

গত এক সপ্তাহে ইরানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। এই ধারাবাহিক আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করা। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব আলোচনা হচ্ছে তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত, একে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে ওমান ও ইরানের কর্মকর্তারা একটি সাময়িক কাঠামোর ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। কাতার আশা করছে, এই ধরনের ছোট ছোট পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ সুগম করবে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো সমঝোতার ব্যাপারে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কম। কারণ, যোগাযোগের মাধ্যম ও পদ্ধতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনার পর কূটনৈতিক যোগাযোগের এই নতুন পথটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই আশা করছে, এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত কমিয়ে শান্তি স্থাপনে ভূমিকা রাখবে।