চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী হলের সিট দখলের চেষ্টা এবং হল প্রভোস্টকে হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের দপ্তরে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হলের ভিপি নেয়ামতুল্লাহ আল ফারাবী ও জিএস নূরনবী সোহান উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সোহরাওয়ার্দী হলে অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান হল সংসদের সভাপতি এবং হলের প্রভোস্টকে হুমকি দিয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আবাসিক হলে বলপ্রয়োগ, প্রভাব বিস্তার কিংবা হুমকির মাধ্যমে সিট দখলের চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশ বজায় রাখার প্রচেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ দখলদারিত্ব কিংবা হুমকির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে হলে সিট দখল কিংবা প্রশাসনিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হুমকি দেওয়ার সাহস না পায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সদ্য পদত্যাগ করা সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নানকে তার পদে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।



