আনোয়ারায় শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধে বড় ফাটল, প্লাবনের আশঙ্কায় স্থানীয়রা

, বাংলাদেশ

আনোয়ারায় শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধে বড় ফাটল, প্লাবনের আশঙ্কায় স্থানীয়রা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। একদিকে যখন বাঁধের কিছু অংশে ব্লক ফেলার কাজ চলছে, ঠিক তখনই অন্যপাশে ফাটল দেখা দেওয়ায় পুরো এলাকাটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। টানা বৃষ্টি, বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর জোয়ারের পানির প্রবল চাপে বাঁধের এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়তে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝির ঘাট এলাকায় বাঁধের বড় একটি অংশে ফাটল ধরেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইতিমধ্যে বাঁধের দুই-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যদি এই বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে ইউনিয়নের ২ নম্বর থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মৎস্য ঘেরগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের জানান, গত ২০ বছর ধরে ভাঙনের কবলে পড়ে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের আয়তন ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে। শত শত মানুষ তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্থানীয়রা রাতে ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছেন। জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিন জানান, ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, কারণ বাঁধের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে শঙ্খ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ জানিয়েছেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ফাটল রোধের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া মাঝির ঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সার্ভে করে নতুন করে ডিপিপি প্রতিবেদন তৈরির কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।