ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, ইরান কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিলে আরও ভয়াবহ ও তীব্র মাত্রায় আঘাত করা হবে। তবে সেই হুমকি উপেক্ষা করেই জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান এখন যেকোনো পরিস্থিতিতে বড় মাত্রার যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পূর্ণমাত্রার সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মতে, যুদ্ধের আগের পর্যায়গুলোতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসলামি আরও বলেন, যদি তারা নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে চায়, তবে ইরান এবার আরও শক্তিশালী উপায়ে তার জবাব দিতে প্রস্তুত।
জর্ডানে মার্কিন অবস্থানের ওপর এই হামলার কৌশলগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এর মাধ্যমে ইরানি বাহিনী সরাসরি ইসরাইলে আক্রমণের প্রস্তুতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এছাড়া কুহেস্তা’তে মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে এসলামি অভিযোগ করেন, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো ইরানেও মার্কিন বাহিনী যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে। তার দাবি, এখনই সময় তাদের থামানোর এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার। তেহরান এখন মনে করছে, ওয়াশিংটন কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতায় আর বিশ্বাসী নয়।



